শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫

এই,এস,সি ২০২৫ রেজাল্ট প্রকাশ হবে ১৬ ই অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ 5 অনেক প্রভাব ফেলবে।


HSC 2025 রেজাল্ট দেখার জন্য স্টুডেন্টরা
ছবি: AI  ধারা তৈরি 


আগামী ১৬ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এর মধ্য দিয়ে অটোপাস, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও সাবজেক্ট ম্যাপিং পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে দেশের অ্যাকাডেমিক পরীক্ষা। তবে খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি এবং কাউকে ‘গ্রেস মার্কস’ না দেওয়ার কারণে এবার জিপিএ-৫ ও পাসের হার কমতে পারে বলে ধারণা করছেন শিক্ষাবিদেরা।


এ অবস্থায় অনেকে মনে করছেন, কম ফল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রভাব ফেলবে। আবার অন্যরা বলছেন, জিপিএ-৫ পাওয়া ভর্তি পরীক্ষায় খুব একটা বড় প্রভাব ফেলে না, কারণ ভর্তি নির্ভর করে মূলত পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।


ভর্তি যোগ্যতা ও মানদণ্ড

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে এইচএসসিতে নির্দিষ্ট ফলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


বুয়েটের ক্ষেত্রে:

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫-এর মধ্যে পূর্ণ ৫ পেতে হয়। পাশাপাশি উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে অবশ্যই জিপিএ-৫ থাকতে হয়। এসএসসিতেও একই বিষয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৪ থাকা বাধ্যতামূলক।


মেডিকেলের ক্ষেত্রে:

প্রার্থীকে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৯ থাকতে হয়। এককভাবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫০-এর কম হলে আবেদন করা যায় না। এছাড়া জীববিজ্ঞান বিষয়ে ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট ৪ থাকা জরুরি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে:

বিজ্ঞান ইউনিটে এসএসসি ও এইচএসসির যোগফল ন্যূনতম ৮, পৃথকভাবে জিপিএ ৩.৫

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে যোগফল ৭.৫, পৃথকভাবে জিপিএ ৩

ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে যোগফল ৭.৫, পৃথকভাবে জিপিএ ৩

চারুকলা ইউনিটে যোগফল ৬.৫, পৃথকভাবে জিপিএ ৩


জিপিএ-৫ এর পরিবর্তন ও প্রভাব

গত কয়েক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ওঠানামা করছে।

২০১৯ সালে ৪৭ হাজারের মতো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি। করোনা মহামারির সময়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং পদ্ধতিতে ফল নির্ধারণের কারণে তখন জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

তবে এবছর স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা ও কঠোর মূল্যায়নের কারণে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতামত

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ভালো রেজাল্ট ভর্তি পরীক্ষায় তেমন প্রভাব ফেলে না। যাদের ন্যূনতম যোগ্যতা আছে, তারা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন,

> “বর্তমানে ‘এ’ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী অনেক, কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় ৯০ শতাংশই ফেল করছে। ফলে এখন আর খয়রাতি নম্বর দেওয়া হবে না; যে যেমন পারবে, তেমন ফল পাবে।”

রাজধানীর একটি কলেজের প্রভাষক মো. আতিকুর রহমান বলেন,

> “এবারের পরীক্ষায় পাসের হার কিছুটা কমতে পারে, তবে এটা জীবনের শেষ নয়। প্রকৃত মেধার ভিত্তিতে ফল প্রকাশ হলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত অবস্থান বুঝতে পারবে।”


শিক্ষার্থীদের অভিমত

এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এবার খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা থাকলেও সবাই একই অবস্থায় আছে বলে তারা বেশি চিন্তিত নন। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন ও রমজান থাকায় ভর্তি পরীক্ষা কিছুটা আগেই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভর্তি প্রস্তুতি: তিন মাসই যথেষ্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং শিক্ষক আবিদুল ইসলাম খান বলেন,

> “বর্তমান ভর্তি প্রশ্নপত্রগুলো সম্পূর্ণ পাঠ্যবইনির্ভর। তিন মাসের প্রস্তুতিই যথেষ্ট। সাধারণ জ্ঞান ছাড়া সবকিছু বইয়ের ভেতর থেকেই আসে। তাই ফলাফল নিয়ে হতাশ না হয়ে মনোযোগী প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”


যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সুমন আলীর অভিজ্ঞতা আরও অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি এইচএসসিতে মাত্র ৩.৮৩ পেয়েছিলেন, তবু কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গণিত বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তার ভাষায়,


> “ফলাফল নয়, পরিশ্রমই ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি।”


#বিশ্ববিদ্যালয়ভর্তি #মেডিকেলভর্তি #এইচএসসিফলাফল #জিপিএ৫ #বুয়েটভর্তি #ঢাবিভর্তি #ভর্তিপরীক্ষা২০২৫ #শিক্ষানিউজ #দৈনিকআলোকবার্তা


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আরো পড়ুন