বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

২০০ মিটার দূরত্বে পুলিশ ফাঁড়ি, গাড়ি ঘিরে ছোড়া হয় মুহুর্মুহু গুলি

 

ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া ছবি
আব্দুল হাকিমকে গুলি করার দৃশ্য ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া 

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে (৫২) হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ছিল মদুনাঘাট বাজারের পানি শোধনাগার কেন্দ্রের মূল ফটকের সামনে—সেখান থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরেই ছিল একটি পুলিশ ফাঁড়ি।


ঘটনাস্থলের ভিডিও ভাইরাল

ঘটনার একটি ৯ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা একটি প্রাইভেট কারের বনেট ও চাকায় গুলি ছুড়ছেন হেলমেট পরা এক ব্যক্তি। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গুলি চালানো ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকজন অস্ত্রধারী ছিলেন, যারা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

আব্দুল হাকিম এর ছবি
আব্দুল হাকিম |ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি 


নিহত আবদুল হাকিম সম্পর্কে জানা গেছে

আব্দুল হাকিম চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন, যদিও তাঁর কোনো দলীয় পদ ছিল না।

তিনি ভেষজপণ্যের ব্যবসার পাশাপাশি গরুর খামার ও কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসা করতেন।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

মদুনাঘাট তদন্তকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসীরা চারটি মোটরসাইকেলে আসে এবং চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। অন্তত ১০-১২ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ জানান, ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছালেও যানজট ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত পালানোর কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


হত্যার মুহূর্তে যা ঘটেছিল

বিকেল পাঁচটার দিকে আবদুল হাকিম তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে করে রাউজান থেকে চট্টগ্রাম নগরে যাচ্ছিলেন। পানি শোধনাগার এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা তাঁর গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ হাকিম ও তাঁর গাড়িচালক মো. ইসমাইলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হাকিমকে মৃত ঘোষণা করেন।


পরিবারের দাবি

নিহতের ভাই মুহাম্মদ পারভেজ বলেন, “আমার ভাইয়ের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। তিনি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। কেন তাঁকে হত্যা করা হলো, তা তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শাস্তি দিতে হবে।”


এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

হত্যার প্রতিবাদে রাতে রাউজান উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কে অবরোধ করেন।

রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত মুন্সির ঘাটা, সূর্য সেন চত্বর ও জলিলনগর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেন দলীয় কর্মীরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, “ঘণ্টাখানেক অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”


রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট

রাউজানে গত ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে শতাধিক সংঘর্ষে ৩০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

#চট্টগ্রাম #হাটহাজারী #বিএনপি #আব্দুলহাকিম #বাংলাদেশনিউজ #দৈনিকআলোকবার্তা #অপরাধসংবাদ #হত্যাকাণ্ড



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আরো পড়ুন