স্পোর্টস ডেস্ক | SM Bangla Sports bd
প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬
পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার Babar Azam সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। ভালো খেললে প্রশংসা, আর ব্যর্থ হলে সমালোচনা—দুই দিকেই সমানভাবে নজর থাকে তার ওপর। গত কয়েক বছরে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় কঠিন সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তবে চলতি Pakistan Super League (পিএসএল) ২০২৬ আসরে ব্যাট হাতে জবাব দিলেন দারুণভাবে।
এবারের আসরে Peshawar Zalmi-এর হয়ে ৫৮৮ রান করেছেন বাবর, যা এক মৌসুমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের সমান। করেছেন দুটি সেঞ্চুরি, যার একটি এসেছে কোয়ালিফায়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি ছিলেন ফর্মহীন এবং তীব্র চাপে।
কঠিন সময় থেকে ঘুরে দাঁড়ানো
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বাবরের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ছয় ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৯১ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ১১২.৩৪। তখন পাকিস্তান দলের কোচ Mike Hesson তার পাওয়ারপ্লে স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এমনকি সমালোচনাও কম হয়নি। সাবেক কোচ Herschelle Gibbs অভিযোগ করেছিলেন, বাবর নিজের জগতে থাকেন এবং পরামর্শ নিতে আগ্রহী নন। আর Shoaib Akhtar তো সরাসরি বলেছিলেন, উন্নতির তেমন ইচ্ছা দেখা যায় না তার মধ্যে।
কোথায় বদল এনেছেন বাবর?
বাবরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সমালোচনা ছিল তার স্ট্রাইক রেট নিয়ে। তবে এবার তিনি খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪৬.৩ স্ট্রাইক রেটে। শুধু রান নয়, খেলার ধরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন।
আগের মৌসুমগুলোতে দেখা যেত, পাওয়ারপ্লেতে পেস বোলারদের বিপক্ষে ভালো খেললেও স্পিনার এলে ধীর হয়ে যেতেন তিনি। ভালো লেন্থে বল করলে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়তেন।
কিন্তু এবারের আসরে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
স্পিনের বিপক্ষে নতুন অস্ত্র
৪ থেকে ৬ মিটার লেন্থে স্পিন বলের বিপক্ষে আগে বাবরের স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১০০-এর আশেপাশে। তিন মৌসুমে মোট রান ছিল ১৮১। অথচ এবারের এক আসরেই সেই একই জায়গা থেকে করেছেন ১৮০ রান, স্ট্রাইক রেট ১৫০ এবং গড় ৯০.০০।
এই পরিবর্তনের বড় কারণ তার ব্যাকফুটে খেলার দক্ষতা বৃদ্ধি। এখন তিনি শুধু ফ্রন্ট ফুটে না গিয়ে বল পড়েই ব্যাকফুটে খেলছেন। যোগ করেছেন নতুন শট—বিশেষ করে স্লগ সুইপ।
গত তিন মৌসুমে যেখানে মাত্র ৬টি স্লগ সুইপ খেলেছিলেন, সেখানে এবার করেছেন ৭টি, যার মধ্যে ৫টিই গেছে ছক্কায়।
শট সিলেকশনে বৈচিত্র্য
এখন বাবরকে দেখা যাচ্ছে স্টাম্প থেকে সরে গিয়ে কাট শট খেলতে, আবার মিডউইকেট ও কাভার দিয়ে হরাইজন্টাল ব্যাট শট খেলতে। এসব পরিবর্তনের ফলে স্পিনের বিপক্ষে তার স্ট্রাইক রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৬-এ, যা আগে ছিল ১২৮ (২০২৪)।
সামান্য আপস, বড় লাভ
স্পিনের বিপক্ষে উন্নতির কারণে পেসের বিপক্ষে তার স্ট্রাইক রেট কিছুটা কমেছে (১৪৮ থেকে ১৩৬)। তবে সামগ্রিকভাবে তার পারফরম্যান্সে যে উন্নতি এসেছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
পিএসএল ২০২৬ শুধুমাত্র রানের গল্প নয়, এটি বাবর আজমের নিজেকে বদলে ফেলার গল্প। সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাট দিয়ে। প্রমাণ করেছেন—সেরা খেলোয়াড়রাও নিজেদের আরও উন্নত করতে পারে, যদি তারা শেখার মানসিকতা ধরে রাখে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন