মেসির নবম ব্যালন ডি’অর কি সম্ভব? এমবাপ্পে-দেম্বেলে-কেইনের সঙ্গে কঠিন লড়াই
বয়স ৩৯। ইউরোপের বাইরের ক্লাবে খেলছেন। তবুও ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় লিওনেল মেসি। এবার কি অসম্ভবকে সম্ভব করে আবারও ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কারটি নিজের করে নিতে পারবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা?
২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবারের ব্যালন ডি’অরের জন্য। আর এই সময়ের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ছিল বিশ্বকাপ। ফলে ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বকাপে কে কী করেছেন, সেটিও হয়ে উঠেছে বড় বিষয়।
মজার ব্যাপার হলো, ক্লাব ফুটবলে যারা আলো ছড়িয়েছেন তাদের অনেকেই বিশ্বকাপে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। আবার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা কয়েকজনের ক্লাব মৌসুম ছিল তুলনামূলকভাবে কম উজ্জ্বল। তাই এবারের ব্যালন ডি’অরের হিসাবটা মোটেও সহজ নয়।
পরিসংখ্যানে এমবাপ্পে এগিয়ে
কিলিয়ান এমবাপ্পের পক্ষে সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর গোলসংখ্যা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে করেছেন ৪২ গোল। সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও ৭টি। ফ্রান্সের হয়েও আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে ছিলেন দুর্দান্ত।
সব মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮-তে। ইউরোপের সেরা গোলদাতাদের তালিকায়ও তিনি সামনের সারিতে। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
তবে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে শুধু গোল-অ্যাসিস্টই নয়, দলের সামগ্রিক খেলায় তাঁর অবদান নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি বিশ্বকাপ
মেসির হিসাবটা একটু আলাদা। ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩০ ম্যাচে তাঁর গোল ও সহায়তার সম্মিলিত অবদান ছিল অসাধারণ। কিন্তু ব্যালন ডি’অরের ভোটে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলার গুরুত্ব বেশি হওয়ায় এখানেই মেসির জন্য তৈরি হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি আবারও দেখিয়েছেন তাঁর সামর্থ্য। আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নেওয়ার পথে তিনি করেছেন ৮ গোল। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর গোল এবং নেতৃত্ব ছিল দলের জন্য বড় সম্পদ।
⚽ গোল: ৮
🏆 আর্জেন্টিনা: ফাইনালে
⭐ বয়স: ৩৯
হ্যারি কেইনও আছেন আলোচনায়
ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে হ্যারি কেইনের নামও সামনে রয়েছে। তাঁর বিশেষত্ব শুধু গোল করা নয়। আক্রমণ তৈরিতে নিচে নেমে আসা, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
অন্যদিকে এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাঁর গতি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা তৈরি করে আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা অসাধারণ।
দেম্বেলের ট্রফি কি পার্থক্য গড়বে?
গতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ওসমান দেম্বেলেও এবার আলোচনার বাইরে নন। পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগসহ একাধিক বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। নকআউট পর্বেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া।
বিশ্বকাপে করেছেন ৬ গোল। তবে নকআউট পর্বে সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। ফলে ক্লাবের সাফল্য ও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স—দুই দিকের হিসাবই ভোটারদের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মেসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোথায়?
ব্যালন ডি’অরের ফল নির্ধারণে ১০০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের ভোট গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু গোল কিংবা শিরোপার সংখ্যা দিয়েই এবার পুরো হিসাব করা কঠিন।
মেসির ক্ষেত্রে একদিকে রয়েছে বয়স এবং ইউরোপের বাইরে ক্লাব ফুটবল খেলার বিষয়টি। অন্যদিকে রয়েছে বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স এবং আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার কৃতিত্ব।
এমবাপ্পের শক্তি গোল ও ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিকতা। কেইনের বড় দিক বহুমুখী আক্রমণাত্মক ভূমিকা। আর দেম্বেলের ক্ষেত্রে রয়েছে ক্লাব পর্যায়ের বড় সাফল্য।
তাহলে কি নবম ব্যালন জিতবেন মেসি?
৩৯ বছর বয়সেও মেসি যে এখনও বিশ্বের সেরা ব্যক্তিগত পুরস্কারের আলোচনায় থাকতে পারেন, সেটিই বড় ঘটনা। তবে এবার তাঁর সামনে রয়েছে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোটারদের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স তাঁর পক্ষে বড় যুক্তি হতে পারে, আবার ইউরোপের বাইরে খেলা তাঁর বিপক্ষে আলোচনার বিষয় হতে পারে। একইভাবে এমবাপ্পে, কেইন ও দেম্বেলের ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সও ভোটের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত ট্রফি—সেটির উত্তর মিলবে ব্যালন ডি’অর ঘোষণার রাতেই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন